সাধারন ভাবে খাদ্য পথ্য
সকল রোগীদের প্রতি খাদ্য ও পথ্য বিষয়ক সাধারন নির্দেশণা
ভূমিকাঃ একজন চিকিৎসককে চিকিৎসা কার্যে পারদর্শী হওয়ার জন্য যে সকল বিষয় জানা থাকা দরকার সে বিষয় সমূহের মধ্যে আরোগ্যের পথে বাধা একটি অন্যতম বিষয় অনেক সময় দেখা যায় সুনির্বাচিত ঔষধ প্রয়োগের পরেও রোগী আরোগ্য হয়না।
এবার আমরা জানবো খাদ্য ও পথ্য কাকে বলে
খাদ্যঃ-যে সকল বস্তু গ্রহন করলে শক্তি উৎপাদন, দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও বিকাশ সাধন, ক্ষয়পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে তাকে খাদ্য বলে।
পথ্যঃ-রোগাবস্থায় রোগীর জন্য উপযুক্ত ও সহজ পাচ্য আহারই পথ্য।
সকল রোগীদের প্রতি খাদ্য ও পথ্য বিষয়ক সাধারন নির্দেশণা
০১.চিকিৎসাকালে ভেষজগুনসম্পন্ন পথ্য বর্জনীয়।
০২.চিররোগের ক্ষেত্রে ভুল পানাহারে পীড়ার বৃদ্দি ঘটে।
০৩.চিররোগের ক্ষেত্রে আরোগ্যের বাধা দূর করে বিপরীত অবস্থা সৃষ্টি করা দরকার। অর্থাৎ আরোগ্যের অনুকুল আহার, পরিবেশ, ব্যায়াম, শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি পরামর্শ দিতে হবে।
০৪.তরুন রোগে রোগীর মানসিক অস্থা সুস্থ থাকলে কোন খাদ্য খাইতে রোগীর প্রবল আকাংখা হইলে তখন বাধা নাদিয়া বরং রোগীর স্বাভাবিক ইচ্ছা পুরোন করা উচিত তাতে জীবনীশক্তি সুস্থ বোধ করে। কিন্তু নোক অখাদ্য বা ক্ষতিকর বস্তু দেয়া যাবেনা।
রোগীর আরোগ্য ও সু,স্বাস্থ্যের জন্য করনীয় ও বর্জনীয় বিষয় আমরা তিনটি পার্টে আলোচনা করবোঃ-
রোগের ক্ষেত্রে।
ঔষধের ক্ষেত্রে।
সাধারন। (অর্থাৎ সুস্থ্য বা অসুস্থ্য সবার জন্য করনীয় ও বর্জনীয়)
সাধারন ভাবে সবার জন্য বর্জনীয় বিষয় এখানে আলোচনা করবোঃ-
০১.অতি ০২.দীর্ঘ ০৩.কাঁচা ০৪.নেশা
অতিরিক্তঃ- দেহের চাহিদাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন বর্জনীয়, শারিরীক ও মানসিক পরিশ্রম, রোদ, বৃষ্টি, পানিতে ভেজা, রাতজাগা, হস্তমৈথুন করা,সহবাস করা, তেল চর্বি, মশলা জাতীয় খাবার, আলোবাতাস হীন বদ্ধ স্যাঁত স্যাঁতে স্থানে বসবাস, সাধ্যাতিরিক্ত কাজ ইত্যাদি সহ সকল বিষয় সকলের জন্য বর্জনীয়।
সাধারন ভাবে সবার জন্য বর্জনীয় বিষয় এখানে আলোচনা করবোঃ-
দীর্ঘ ঃ- দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকা, মল মুত্র আটকে রাখা, যে কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইজ ব্যাবহার করা, দীর্ঘ দিন কম বা অর্ধসিদ্ধ খাবার খাওয়া।
কাঁচা ঃ- কাাঁচা পিয়াজ, রসুন, চাল, ডিম, দুধ ইত্যদি খাবার যা রান্না বা সিদ্ধ না করে খাওয়া যায়না তেমন খাবার বর্জনীয়।
নেশা ঃ- গুল, জর্দা, পান, বিড়ি, সিগারেট, গাজা, মদ, ইয়াবা, হুইচকি ইত্যাদি সহ যে কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য বর্জনীয়।
সাধারন ভাবে সবার জন্য করনীয় বিষয় এখানে আলোচনা করবোঃ-
দেহের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার পর্যাপ্ত পরিমানে খাওয়া।
প্রতি ৪০ মিনিটে এক বার পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করা।
নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রদি দিন কম পক্ষে ৪৫মিঃ হাটা হাটি করা।
পর্যাপ্ত ঘুম একজন সুস্থ্য ব্যক্তি ২৪ ঘন্টায় ০৬ ঘন্টা ঘুমাবে।
নিয়মিত গোসল করা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা
ঘর ও বাড়ীর আঙ্গিনা পরিস্কার রাখা কোথাও জমানো পানি খোলা না রাখা।
বিছানাপাটি, পোষাক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
সকল কাজে বিশুদ্ধ পানি ব্যাবহার করা। নিয়মিত দাঁত পরিস্কার করা ও যথা সম্ভব হাশি খুশি থাকা।
রোগের ক্ষেত্রে ঃ- বিশ^ব্যাপি আজ হাজার হাজার রোগের তালিকা রয়েছে দিন দিন আরো নতুন নতুন রোগ দেখা দিচ্ছে, যেহেতু রোগের তালিকা অনেক লম্বা তাই আমরা এখানে বিষয়টি আলোচনা করছি না। এ ক্ষেত্রে আমারা রোগীভেদে রোগের ধরন অনুপাতে যখন যে রোগ আলোচনা হবে তখন সে রোগে করনীয় বর্জনীয় বিষয় আলোচনসা করবো।
তবে আমার পূর্বের আলোচনা থেকে করনীয় বর্জনীয় বিষয় আয়ত্ত্ব করলে যে কোন রোগের রোগীকে পরামর্শ দেয়া অনেক সহজ হবে।
ঔষধের ক্ষেত্রে ঃ- প্রতিটি মেডিসিন পড়ার সময় এই বিষয়টি মনোযোগের সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে। উৎস অনুযায়ী প্রতিটি মেডিসিনের করনীয় বর্জনীয় বিষয় আলোচনা করলে সহজে তা মনে রাখা ও প্রয়োজনে ব্যাবহার করা সহজ হবে।
এখানে আমরা যা যা শিখবো
খাদ্য, সুষম খাদ্য ও পুষ্টি এবং ক্যালোরি বিষয়ে সাধারন আলোচনা।
একজন সুস্থ্য মানুষ প্রতিদিন কি পরিমান খাদ্য গ্রহন করবে তা কিভাবে নির্ণয় করতে হবে।
কোন খাবারে কি পরিমান পুষ্টিগুন ও ক্যালোরি রয়েছে।
খাদ্য কাকে বলে ঃ যে সকল বস্তু গ্রহন করলে শক্তি উৎপাদন, দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও বিকাশ সাধন, ক্ষয়পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে তাকে খাদ্য বলে।
খাদ্যের কাজ
শক্তি উৎপাদন
দেহের গঠন
বৃদ্ধি ও বিকাশ সাধন
ক্ষয়পূরণ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি
Leave a Comment